ডেস্ক রিপোর্টঃ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন জোরেসোরে। সপ্তাহের অফিস টাইমে ঢাকায় থাকলেও ছুটির দিনে এলাকায় নির্বাচনী আসনের উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী হবার পর স্বাস্থ্যখাতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের বিএনপির পেশাজীবী সংগঠনগুলো। যেমনঃ চিকিৎসকদের ড্যাব, নার্সদের ন্যাব ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের এমট্যাব এর নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে নিজেদের পরিকল্পনা ও সহযোগিতার কথা মন্ত্রীকে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য সেবায় সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে সবাই একতাবদ্ধ মনোভাব পোষণ করছেন। বিএনপির পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা এক্ষেত্রে একতাবদ্ধ।
ঠিক এই সময়ে আওয়ামীলীগের নার্স নেতারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছেন। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নার্স নেতা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল। তার নেতৃত্বে একটি টিম স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ পেতে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মন্ত্রণালয়ে। সচিবালয়ের কর্মরত আওয়ামী দোসর নার্সদের সহযোগিতায় এই চিঠি মন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা সেবা ব্যাহত করতে ও নার্সিং সেবায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এই সংঘবদ্ধ আওয়ামী চক্রটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নানা দূর্ণীতির সাথে জড়িত। মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে নির্বাচন বানচাল করতে ও বিএনপিকে বিতর্কিত করতে তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছিলো। এরই অংশ হিসেবে তপসিল ঘোষণার আগে দেশব্যাপী নার্স আন্দোলন ও ঢাকায় নার্স মহাসমাবেশ নামে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে। তখন বিএনপির নার্সিং বিষয়ক সহ সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকী নির্বাচনের আগে নার্স আন্দোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষের দিকে আওয়ামী লীগের লেবাজ পরিবর্তন করে জামায়াত ও এনসিপির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে এই চক্রটি। চক্রটি ভেবেছিল জামায়াত এনসিপি সরকার গঠন করবে। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করলে তার ভোল পাল্টে বিএনপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। নার্সিং পেশায় এই চক্রটি দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত প্রশ্নফাঁস, হাসপাতাল থেকে রোগী অন্যত্র ভাগানো, বদলী ও নিয়োগ বাণিজ্য, ট্রেনিং ও হ্বজ্ব বানিজ্যের সাথে জড়িত ছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিতর্কিত করতে ও বিএনপির ভাবমূর্তি বিতর্কিত করতে আসাদুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে এই চক্রটি আবারো সক্রিয় হতে চাচ্ছে। এজন্য নানা অযুহাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে চাচ্ছে তারা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল আওয়ামী সিন্ডিকেট এসব কাজে আসাদুজ্জামান জুয়েলকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ সম্পাদক (নার্সিং বিষয়ক) জাহানারা সিদ্দিকী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নার্স নেতারা যাতে কোনোভাবেই বিএনপিকে ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিতর্কিত না করতে পারে এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। অতিদ্রুত আওয়ামী নার্স নেতাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।


